লেখকঃ মু: সামশুল হক
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা
আমার জ্ঞান হওয়া হতেই দেখতেছি যে, ঈদে মীলাদুন্নাবী এবং ৪ঠা ফাল্গুন উদ্যাপন করার জন্য আমরা সপরিবারে খিলাফাতী খানকাহ শারীফে (ঠাকুরগাঁও রোড) আসতাম। মহা সমারোহে ঈদে মীলাদুন্নাবী উদ্যাপন করায় আমরা অধীর আগ্রহে ঈদে মীলাদুন্নাবীর জন্য অপেক্ষা করতাম এবং প্রায় প্রতিটি ঈদে মীলাদুন্নাবী উৎসবে শরীক হতাম। কিন্তু অন্য কোথাও ঈদে মীলাদুন্নাবীর চিহ্নমাত্রও দেখা যেতনা। পক্ষান্তরে খিলাফাত বাউন্ডারীর বাহিরে শবে ক্বাদার, শবে বরাত যেমন মহাসমারোহে উদ্যাপন করা হয়, এখানে তেমনভাবে হতনা। সে সময় ৪ঠা ফাল্গুনই হাজরাত খালীফার সাঃ জন্ম দিবস হিসেবে উদ্যাপন করা হত। হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ নিজেকে একাদশ খালীফা সাঃ বলে দাবী করেন। কিন্তু কেন? এ বিষয়গুলি আমার মনে তোলাপাড়া করতে থাকে। ঈদে মীলাদুন্নাবীর সূত্র ধরেই একাদশ খালীফা সাঃ কর্তৃক রচিত এবং খিলাফাতী খানকাহ শারীফ হতে প্রকাশিত পুস্তক/পুস্তিকা থেকে একাদশ খালীফা সাঃ এবং একাদশ খিলাফাত সম্পর্কে উদ্ধৃত অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ আমার দিব্যদৃষ্টি খুলে দেয় (আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত)। এ বিষয়ে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরা হল। এতে কোন ভূল ভ্রান্তি থাকলে এবং তা জানালে ভূল ত্রুটি নিরসনে সচেষ্ট হব, ভূল ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হব, ইন্শাআল্লাহ্। বিষয় প্রসঙ্গে কোন কোন উক্তি বা বাক্যের পুনরুল্লেখ বা দ্বিরুক্তি হয়েছে যা মার্জনীয়।
একাদশ খালীফার সাঃ একাদশ খালীফা ঘোষণা/দাবীঃ-
ইসলামের প্রথম খালীফা হাজরাত আবু বাকার সিদ্দিক আঃ হইতে দশম খালীফা হাজরাত হারুন-অর-রশীদ আঃ পর্যন্ত খালীফাগণের খিলাফাতকাল ইতিহাস স্বীকৃত। আর ইহাত সর্বজন বিদিত যে, দ্বাদশ খালীফা হবেন হাজরাত মাহদী আঃ। এখন নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন শুধু একাদশ খালীফা সাঃ সম্পর্কে। হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ বাংলা ১৩৫৩ সালে পৌষ মাসে মীলাদুন্নাবী উৎসব মাজলীসে নিজেকে “একাদশ খালীফা” বলিয়া প্রথম ঘোষণা করেন। “ইনকানা লিল্লাহি ফিল আরজি খালিফা” এই হাদীস মর্মে আমি সেই খালীফা – বলে তিঁনি ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য যে, হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহার সাঃ পূর্বাপর কেউ নিজেকে একাদশ খালীফা বলে দাবী করেন নি।
একাদশ খালীফা দাবীর বিচার্য বিষয়সমূহঃ-
(১) ইসলামী বিধি বিধানের দ্বিতীয় মানদন্ড হচ্ছে হাদীস শারীফ। দেখা যাক, একাদশ খালীফা সাঃ সম্পর্কে হাদীস শারীফে কী বলা হয়েছে?
হাজরাত মুহাম্মাদ সাঃ বলেন –
(ক) আমার পর আর কোনই নাবী হইবেনা। আমার পর খালীফাগণ হইবে।
(খ) ইসলাম প্রবল হইতে বিরত হইবেনা / কিয়ামাত হইবেনা ১২ জন খালীফা না হওয়া পর্যন্ত। প্রত্যেকে কুরায়শ হইতে হইবে।
(২) তাঁর (একাদশ খালীফা সাঃ) পীর আঃ বলেন – আমার হাজরাত শাহ কিবলাহ আঃ এ অধমকে যে আমানত দিয়ে গেছেন, আল্লাহ আমাকেও সে আমানত হুবাহুব দেওয়ার জন্য আপনার মত মহান অস্তিত্ব আমাকে মিলিয়ে দিয়েছেন।
(৩) হাজরাত খালীফার সাঃ স্বভাব সুন্দর দর্শনে তখনকার জ্ঞানী গুনীরা তাঁর “মহামানব” হওয়ারই ভবিষ্যৎবানী কহেন। তন্মধ্যে একদা মালদুয়ার এষ্টেটের ভূ-স্বামী শ্রী টঙ্কনাথ চৌধূরী তাঁহার হাজরাত পিতা দর্শন আলী শাহকে বলেন – “খাজাঞ্জি সাহেব, আপনার পুত্র শুধু পুত্র নয়। আপনার পুত্র দূরে ! বহুদূরে ! তাকে ভবিষ্যতে বহু ঊর্ধ্বেই (শোভামান) দেখা যায়। ভবিষ্যতে তা থেকে মতি পয়দা হবে”।
উল্লিখিত বিষয় সমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে (১)(ক) মোতাবেক তিঁনি নিজেকে নাবী দাবী করেন নাই। (১)(খ) মোতাবেক তিঁনি নিজেকে দ্বাদশ বা ততোধিক খালীফা দাবী করেন নাই। প্রকাশ থাকে যে, হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ মুহাম্মাদ বিন আলী উরফে মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়াহ আঃ মধ্যস্থতায় হাজরাত আলীর আঃ বংশে সাবিত আছেন। সুতরাং তিঁনি কুরায়শী, হাশিমী, মুত্তালিবী ও আলাব্বীও বটেন।
‘বুহায়রা ও ওয়ারাকা বিন নাওফিল’ হাজরাত রাসূলের সাঃ রিসালাত সত্যতায় ঐ সাক্ষ্য কহেন। খালীফার সাঃ খিলাফাত সত্যতায় তাঁর পীর হাজরাত আফতাবুজ্জামান আঃ (উক্ত প্রশংসা (২) করনে) এবং জ্ঞানী গুনীদের ভবিষ্যৎবাণী কি সাক্ষী নহেন? বিচার্য বিষয় সমূহে উল্লেখিত হাদীস দুটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, হাদীস দুটির শর্তসমূহ যথাযথ ভাবেই পরিপালিত হয়েছে এবং তাঁর খালীফা দাবী ইসলামী বিধি বিধানের পরিপন্থী নয়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ বারহাক একাদশ খালীফা। এতে এতটুকু সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ মাত্র নেই।
একাদশ খালীফার সাঃ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
একাদশ খালীফা হিসেবে হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ অশেষ গুণের অধিকারী। তন্মধ্যে কতিপয় তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ-
(১) একাদশ খালীফা সাঃ বলেনঃ- উলুম আজাম মুহাম্মাদ রাসূলের সাঃ মধ্যে আমিই তাঁর একমাত্র উলুল আজাম খালীফা। তাঁর পূর্ণ চরিত্রের বয়ান দেওয়াই আমার খিলাফাতের মূখ্যতম উদ্দেশ্য। বীথিকাই আমার সে তাফসীলী বয়ান।
(২) একাদশ খালীফা সাঃ বলেনঃ- আমি শুধু অমাধ্যস্থিক ও কাশফ সূত্রে অবগত নই। আমি মাধ্যস্থিক ওহী সূত্রেও ইয়াকীন যে, আমি বারহাক আল্লাহর খালীফা।
(৩) হাজরাত রাসূল সাঃ বলেনঃ- যদি হয় জমিনে আল্লাহর একজন খালীফা, এমন যে তিনি পিঠে মারেন ও মাল লয়েন তবেও তার আনুগত্য কর। যদি না হয়, তবে মরিয়া যাও গাছের শিকর কামড়াইয়া (মিশকাত)। হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ একাদশ খালীফাই উক্ত খালীফা।
(৪) হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ মাত্র ২৬ বছর বয়সে আপন পীর কর্তৃক সকল ত্বারীকাহরই আমীরী (পীরত্ব বা খিলাফাত প্রাপ্ত হন)।
(৫) তিঁনি যথাসম্ভব মূয়ামালাহ সকল তাঁর পীর কিবলা হাজরাত আফতাবুজ্জামানকেও আঃ জানাতেন। …….তিঁনি তাঁর পীরের প্রথম শ্রেণীর প্রথম, প্রধান ও প্রিয়তম খালীফা ছিলেন। তাঁর পীর তাঁকে না দেখিয়ে কোন জটিল মাসয়ালারও সমাধান দিতেন না।
(৬) হাজরাত খালীফা সাঃ বলেনঃ- পীরী-মুরীদী করা বা সালিকিনদের শিক্ষা দেওয়া বা জনগণকে উপদেশ দান করা আমার সৃষ্টির উদ্দ্যেশ্য নয়। আমার যা কাজ, তার তুলনায় উক্ত সকল করা সামান্য ও নগণ্য। মুজমাল দ্বীনকে তাফসীলে পরিণত করাই আমার সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য, আমার খিলাফাতের মূখ্যতম উদ্দ্যেশ্য। এমতাবস্থায় যারা আমার সাথে সম্পর্ক রাখে, তারা চরম আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করে। বীথিকাই আমার সে তাফসীলী গ্রন্থ। বীথিকা শারীয়াত ভিত্তিরই উপর অর্থাৎ আহ্লি সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ভিত্তিরই উপর প্রতিষ্ঠিত।
(৭) হাজরাত খালীফা সাঃ এক পত্রে লিখেনঃ- হাজরাত রাসূলুল্লাহ সাঃ যে প্রকার “ফায়তু বি সুরাতিম মিম্ মিসলিহি”- তোমরা একটি সূরার অনুরূপ আর একটি সূরা লইয়া আস এই চ্যালেঞ্জ করিয়াছিলেন, সেই প্রকার আমিও আমার খিলাফাতের সত্যতায় চ্যালেঞ্জ করিতেছি যে, আপনারাও সমগ্র জগত মিলিয়া আমার একাদশ খিলাফাত পুস্তিকায় লিখিত “আল্লাহ ও মায়বুদ আল্লাহ’র” মায়রিফাত মুকাবিলায় আর এক মায়রিফাত লইয়া আসুন।
(৮) হাজরাত খালীফা সাঃ বলেনঃ- যে কোন পীরের নিকট বায়য়াত হলে তার নিম্নতম তিনটি দেহ এক সঙ্গে লঘু লঘু আলোকে আলোকিত হয়। পক্ষান্তুরে আমার নিকট বায়য়াত হলেই এক সাথে ৫২টি দেহ লঘু লঘু আলোকে আলোকিত হয়।
(৯) কুরআন যেমন হাজরাত মুহাম্মাদের সাঃ শ্রেষ্ঠতম মুয়জিজা ছিলেন, বীথিকাও তেমন হাজরাত খালীফার সাঃ শ্রেষ্ঠতম মুয়জিজা হইলেন।
(১০) রাসূল সাঃ চরিত্রে আল-আমীন ছিলেন, খালীফাও সাঃ চরিত্রে ঐ মহামানব আখ্যায়িত হইলেন।
(১১) হাজরাত মুহাম্মাদ সাঃ আল্লাহ’র ‘লুকাইয়া ধন’ এবং হাজরাত মুহাম্মাদ শামসজ্জুহা সাঃ আল্লাহ’র ‘লুকিয়া ধন’। হাজরাত মুহাম্মাদ সাঃ এবং হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহার সাঃ পরস্পর সম্পর্ক যেন একই।
একাদশ খালীফার সাঃ মুরীদগণের বৈশিষ্ট্যঃ-
(১) হাজরাত মুহাম্মাদ সাঃ বলেন – আমার উম্মাত বৃষ্টির ধারার মত। প্রথম বৃষ্টির ধারা শ্রেষ্ঠ? না শেষ বৃষ্টির ধারা শ্রেষ্ঠ? বুঝা যায় না (মিসকাত)। উক্ত হাদীস মর্মে প্রথমোক্ত বৃষ্টির ধারা হাজরাত মুহাম্মাদের সাঃ সাহাবীগণ এবং শেষ বৃষ্টির ধারা হলেন হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহার সাঃ মুরীদগন। এ প্রসঙ্গে একাদশ খালীফা সাঃ বলেন – আমার মুরীদগণ আজব মুরীদ। তারা ঐ খুসুসিয়াতে বিভুষিত।
(২) হাজরাত মুহাম্মাদ সাঃ বলেন – ঈমানে আজব সৃষ্টি সেই দলটি, যে দলটি আমার পরে আসিবে। তাহারা পাইবে পাতা (সাহীফা) গুলি। তাহাতে থাকিবে লিখা (পান্ডুলিপি বা কিতাব), তাহাতে যা থাকিবে (যে সমস্ত বিষয়) তাহারা তাহার উপর ঈমান আনিবে (মিসকাত)। এই পান্ডুলিপি বা কিতাব মর্মে ‘বীথিকাপাক’ এবং আজব দলটি মর্মে একাদশ খালীফার সাঃ মুরীদগণ হইলেন।
একাদশ খালীফার সাঃ বিশেষ বিশেষ বাণীসমূহঃ-
(১) উলুল আজাম মুহাম্মাদ রাসূলের সাঃ মধ্যে আমিই তাঁর একমাত্র উলুল আজাম খালীফা। তাঁর পূর্ণ চরিত্রের বয়ান দেওয়াই আমার খিলাফাতের মূখ্যতম উদ্দ্যেশ্য। তা তাফসীলে পরিণত করাই আমার সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য। “বীথিকাই” আমার সে তাফসীলী বয়ান।
(২) আমি একজন বাঙালী। আমার ভাষা বাংলা। ‘বীথিকা’ আমার বাংলা ভাষায়। এককালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে। বাংলাভাষা এককালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করবে।
বিঃদ্রঃ ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্যাতিক মর্যাদা লাভ করে। স্মর্তব্য যে, বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। অচিরেই তাও বাস্তবায়িত হবে, ইন্শাআল্লাহ।
(৩) ঠাকুরগাঁও রোডের ভাগ্য সুপ্রসন্ন। আমার কারণে সে বারাকাতওয়ালী। আমার দোয়ায় সে নিরাপদ। ………আজ আপনারা দেখতেছেন ঠাকুরগাঁও রোডকে এই নিবিড় জঙ্গলাকীর্ণ ও হিংস্র পশু পাখিতে ভরপুর? ইহা একদিন কামিনী শহর হবে। আমার জন্মভূমি হবে ফুল শহর।
বিঃদ্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে (১৯শে মে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে) পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক খানকাহ শরীফ বাউন্ডারীর চতুর্দিকে ঘিরে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ মেশিনগান সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের গোলাবর্ষনের পরও বাউন্ডারীর সকল মানুষ সহ ঘরবাড়ী অক্ষত থাকা, খালীফাতুল্লাহর সাঃ বাণীর (ঠাকুরগাঁও রোডের) নিরাপত্তার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও রোডের নিম্ন আয়ের জনগণের আয়-রোজগার ও জীবনযাত্রার মান অন্যান্য এলাকার বিত্তশালী অপেক্ষাও উন্নততর হওয়ার (বারাকাতওয়ালীর) বিষয়টিও অনুরুপভাবে প্রমাণিত।
(৪) আমার মৃত্যুতে যদি তোমরা এক ফোঁটা চোখের জল ফেলতে পার তবে তাই তোমাদের জন্য সৌভাগ্য। ……..এমন সন্ধিক্ষণে আমার মৃত্যু হবে যে, তোমরা আমার জন্য কাঁদতে পারবে না, কাঁদবার সুযোগ পাবে না।
বিঃদ্রঃ পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক ঠাকুরগাঁও দখলের মাত্র কয়েক দিন পরেই ১৯৭১ সালের ১৯শে এপ্রিল একাদশ খালীফা সাঃ ওফাত করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিঊন। সেই সময় নিজের জীবন রক্ষার্থে জনগণ সশব্দে কাঁদাত দূরের কথা, উচ্চস্বরে কথা বলতে পারতনা।
(৫) আমাল? ঈমানে কয়জন টিকে থাকবে? আরে এখনো কি হয়েছে? আরো চাপের সৃষ্টি হবে। এমন যে, মুসলিম জগত ওতপ্রোত হয়ে যাবে। নাকের উপর পানিতে ডুবে থাকার মত মানুষের অবস্থা হবে। সাধারণ জনেরা কেন, রাষ্ট্রের নেতারা পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে যাবে। সে সময় এক বিষয় হওয়ার কথা। সে সময় অকস্মাৎ মহাযুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার কথা।
(৬) আমার এ খিলাফাত বাউন্ডারী খারাপ হয়ে যাবে। আমাল? ঈমানে কয়জন টিকে থাকবে? কিন্তু জেনে রাখুন! আমার যদি একটি লোকও থাকে তবে আমি যা প্রতিষ্ঠা করেছি তা কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমার খিলাফাত বাউন্ডারীকে নষ্ট করতে পারবে না।
(৭) আমি মুশরিককে, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানকে ভয় করিনা। আমি ভয় করি ঐ ফাসিককে যে লেখাপড়ায়, সূরাতে ও লেবাসে পূর্ণ মুসলমান; একজন বড় আলীম; কিন্তু অন্তর ঘুণে খাওয়া ক্ষুদ্ধ ব্যাঘ্র – সংক্রামক রোগী।
বিঃদ্রঃ “এমন জামানা আসিবে – যখন লোকের জবান নাবীর মত, আর দিল ব্যাঘ্রের মত হইবে” – হাদীসটি বর্তমান জামানায় বিশেষভাবে প্রাধ্যাণ্য যোগ্য।
(৮) একাদশ খালীফা সাঃ তাঁর ওফাতের যথাদিন পূর্বে তাঁর সহধর্মিনীকে বলেন – আমার মৃত্যুর পর যদি পাঁচ বছর টিকলে, তবে বুঝবে তুমি আরো কিছুদিন বাঁচবে। নচেৎ পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেই তুমিও দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাবে।
বিঃদ্রঃ হাজরাত মা রাহীমা আঃ (একাদশ খালীফার সাঃ সহধর্মিনী) বাংলা ১৩৮৩ সালের ৪ঠা বৈশাখ (পাঁচ বছর পূর্তি না হতেই) ওফাত করেন।
(৯) আপনাদের কিছুই করতে হবেনা। আপনারা শুধু লাঠি ধরে থাকেন। ডিউটি করেন। আমার আদেশ নিষেধ মান্য করে চলেন। আল্লাহর আরো লোক আছে। তারাই করবে আমার কাজ। যাদেরকে হয়ত আজ আমরা দেখছিনা, যারা আজ আমাদের বিরোধিতা করছে তারাই হয়ত একদিন আমাদের কাজ করছে, দেখতে পাবেন। …………আপনারা শারীয়াত মেনে চলেন। আমার আদেশ নিষেধও মান্য করে চলেন। আমাকে ডিউটি প্রহরা করেন। এতেই অভীষ্ঠ সিদ্ধি লাভ করবেন। আমার জন্য এক ঘন্টা ডিউটি করা সত্তর বছর নাফল ইবাদাত অপেক্ষাও অধিক। আমার ব্যাপার সম্পূর্ণ ভিন্ন। কর্মক্ষেত্রও আমার সম্পূর্ণ অন্য। ……..এ খিলাফাত সহজ নয়। খুব ভারী।
একাদশ খালীফার সাঃ নাশীহাত সমূহঃ-
(১) একাদশ খালীফা সাঃ বলেন – যে কোন নাবী, রাসূল ও পীরকে দেখলে আল্লাহর স্মরণ হয়। আল্লাহর জিক্র হয়। হেতু তাঁহাদেরকে দেখার অর্থ আল্লাহকেই দেখা হয়। নাবী, রাসূল ও পীরের উপর হাত রেখে বায়াত হলে আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ হাতেই বায়াত হওয়া হয়। আপনারা আমার মুরীদ। অতএব এ গুমরাহী যুগে যতই ঝন্ঝাবায়ু আসুক না কেন? আপনারা বায়াত ছিন্ন করবেন না। আল্লাহর রজ্জু সুদৃঢ় করে রইবেন। এই যে – “তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ় ধারণ কর” অবতীর্ণ আছেন, তদমর্মে নিজেদের পীরকেও ধারণ করা মুরাদ হল।
(২) একাদশ খালীফা সাঃ বলেন – আমার মুরীদগণের জন্য আমার জীবমানে নাফসে ফানা হওয়া শর্ত। হাজরাত হাবীব রাসূলের সাঃ উম্মাতগণের জন্যও তা শর্ত ছিল। সাবধান! প্রথম সুলতান জীবমানেও তাই শর্ত।
(৩) একাদশ খালীফা সাঃ তাঁর প্রায় নাশীহাতেই সুন্নী জামায়াতে দৃঢ় থাকার ও রাজনীতি না করার তাকিদ কহেন। মাওলানা মাওদুদীর পথে শামীল হওয়া হারাম কহেন।
(৪) খালীফা সাঃ বলেন – আমার উপদেশ যে আপনারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাঃ” উপর দৃঢ় ঈমান রাখবেন। নামাজ কায়িম করবেন। বান্দার হাক্ দুনিয়াতেই আদায় করবেন। বড়কে সম্মান ও ছোটকে স্নেহ করবেন । বান্দার হাক্ মধ্যে আমানাত-খিয়ানাত ও পিতৃক মার্তৃক সম্পর্ক (রেহেম) ছিন্ন অত্যন্ত কঠিন। দোজখ ব্যতীত এর ক্ষমা নাই।
উদ্ধৃত হাদীস সমূহ, জ্ঞানীগুণী জনের ভবিষ্যৎবাণী, তাঁর ঘোষণা, জীবমানে তাঁর কার্যকলাপ, বাণী, নাশীহাত সমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ তাঁর একাদশ খিলাফাত দাবীর ক্ষেত্রে ইসলামী শরা-শারীয়াত, বিধি-বিধান পরিপন্থী কোনো কিছুই পরিলক্ষিত হয় নি। তাই আমিও দৃঢ় কন্ঠে বলছি যে, হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ বারহাক একাদশ খালীফা। উক্ত বিষয়ে নিম্ন উদ্ধৃত অংশে মনোনিবেশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি :-
হাজরাত একাদশ খালীফা সাঃ তাঁর সারাটি জীবনে বহু কিছু বলে গেছেন যার প্রত্যেকটি আজ অক্ষরে অক্ষরে পোহায় যাচ্ছে। আশা করি অবশিষ্টগুলিও পোহায় যাবে ইন্শাআল্লাহ্ আমার পীর কিবলার আঃ ওয়াসিলায়। তবে আমরা মুরীদগণ তাঁর কথায় ও কাজে যা বুঝতাম ও ভাবতাম, তা কিন্তু তেমনভাবে হতনা। একদা তিঁনি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় পুত্রকে বললেন – তোমরা কি করতেছরে? তোমরা যে কি চিন্তা করতেছ, কি ভাবতেছ, তার একটাও হবে না রে, একটাও হবে না। আল্লাহ যে কোন কল কোন দিক দিয়ে ঘুরাচ্ছেন, তা কে বলবেন? তা আল্লাহ’ই জানেন। আল্লাহ’ই বুঝেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ’ই আলীম, আল্লাহ’ই হাকীম। আমরা অদূরদর্শী। পরিণামদর্শী জনই কিন্তু মুবারক লোক।
অবলম্বনেঃ
(১) মানব জীবন;
(২) খিলাফাত সত্যতার দালীল;
(৩) জীবন কথা – হাজরাত মুহাম্মাদ শামসুজ্জুহা সাঃ;
(৪) দর্পণ।
No comments:
Post a Comment